শরিফ ওসমান হাদি হ’\ত্যা’\কাণ্ডে আসামিদের গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও বিচার প্রক্রিয়া ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ (Inquilab Mancha)। রবিবার (২২ মার্চ) মধ্যরাতে সংগঠনটির ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই দাবি তুলে ধরা হয়। এতে সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের স্বাক্ষর রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতে সংঘটিত এই হ’\ত্যা’\কাণ্ডের আসামিদের রিমান্ডসহ পুরো বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার (Bangladesh Government)-এর নীরবতা জনমনে গভীর প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। শহীদ ওসমান হাদি হ’\ত্যা’\কাণ্ডের আসামিরা ভারত (India)-এর পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) রাজ্যে আটক হওয়ার পর ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে তোলা হয় এবং পরবর্তীতে আবারও ১৪ দিনের হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অথচ পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা সংগঠনটিকে স্তম্ভিত করেছে বলে দাবি করা হয়।
সংগঠনটি আরও জানায়, আসামিদের গ্রেপ্তারকে প্রথমে সরকারের সাফল্য হিসেবেই দেখা হয়েছিল এবং তা উদযাপনও করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী পরিস্থিতি সেই আশাবাদকে ভেঙে দিয়েছে এবং সরকারের ব্যর্থতাই এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করে।
এই প্রেক্ষাপটে ইনকিলাব মঞ্চ জাতির সামনে ছয় দফা দাবি তুলে ধরে:
প্রথমত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবিলম্বে সক্রিয় হয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে খু’\নি’\দের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে—এটি কোনো অনুরোধ নয়, বরং জনগণের পক্ষ থেকে স্পষ্ট আল্টিমেটাম।
দ্বিতীয়ত, হ’\ত্যা’\কাণ্ডের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড বা নেপথ্যের কুশীলবদের আড়াল করার যেকোনো চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। একটি উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
তৃতীয়ত, আসামিরা কীভাবে সীমান্ত পাড়ি দিল এবং কারা তাদের সহযোগিতা করল—গোয়েন্দা সংস্থা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কেউ জড়িত ছিল কি না—তা দ্রুত তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের নাম প্রকাশ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
চতুর্থত, ভারতে ‘ইউএপিএ’ আইনের জটিলতায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত না হয়, সে জন্য একটি বিশেষ আইনি বিশেষজ্ঞ সেল গঠনের আহ্বান জানানো হয়। এই সেল ভারতের আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে এবং নিয়মিতভাবে জাতিকে অগ্রগতি জানাবে। একই সঙ্গে ১৫ দিনের মধ্যে খু’\নি’\দের দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি জটিলতা দূর করতেও এই সেলকে ভূমিকা রাখতে হবে।
পঞ্চমত, ওসমান হাদি হ’\ত্যা’\কাণ্ডের বিচার কোনো গোপন প্রক্রিয়ায় নয়, বরং ‘ওপেন ট্রায়াল সিস্টেম’-এর আওতায় জাতীয় গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করার দাবি জানানো হয়, যাতে জনগণ বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রত্যক্ষ করতে পারে।
ষষ্ঠত, আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দৃশ্যমান অগ্রগতি বা স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা না করা হলে, ঢাকাসহ সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, রাজপথ থেকে উঠে আসা এই সংগঠন শহীদের রক্তের সঙ্গে কোনো আপস করবে না।


