এক-এগারোর সময় আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (Masud Uddin Chowdhury)-কে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম (Shafiqul Islam)-এর নেতৃত্বে একটি দল বারিধারার ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসন থেকে প্রথমে আওয়ামী লীগ (Awami League)-এর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। তবে পাঁচ দিনের মাথায় তিনি জাতীয় পার্টি (Jatiya Party)-এর মনোনয়ন ফরম কেনেন এবং পরদিনই দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন।
২০০৭ সালের এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তিনি তার অধীনস্থ ব্যাটালিয়নের সহযোগিতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ভবন, বঙ্গভবনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। সে সময় সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন।

তার নেতৃত্বাধীন ওই কমিটির অধীনেই কথিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, যা সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ২০০৮ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান এবং পরবর্তীতে তার চাকরির মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। কথিত আছে সেনা প্রধান মঈন উদ্দিন আহমেদকে সামনে রেখে ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তত্বাবধায়ক সরকার বসানোর মূল পরিকল্পনা ছিলো তারই ছিল।
অবসর গ্রহণের পর তিনি ঢাকায় বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন, যার মধ্যে রেস্তোরাঁ ব্যবসাও রয়েছে।
উল্লেখ্য এর আগে গত বছরের মে মাসে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত অর্থের অতিরিক্ত এক হাজার ১২৮ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, নূর মোহাম্মদ আব্দুল মুকিত, মেহবুবা আফতাব সাথি এবং তাসনিয়া মাসুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
সেনাবাহিনীর চাকরিতে যোগদানের পূর্বে তিনি রক্ষী বাহিনীর সদস্য ছিলেন। ১৯৭৪ সালে তিনি চট্টগ্রামে কসকরের ট্যালী ক্লার্ক ছিলেন। দুর্ভিক্ষের সময় তিনি রিলিফ হিসাবে আসা ২ ট্রাক নারিকেল তৈল চোরাকারবারীদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে দেন, যা ময়মনসিংহে খালাস হয়। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত বিভিন্ন থানায় মাসুদসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলা হতে বাঁচার জন্যই রক্ষী বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পরে রক্ষী বাহিনী বিলুপ্ত করে এ বাহিনীর সদস্যদের সেনাবাহিনীর বিভিন্ন বিগ্রেডে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ষষ্ঠ জেআরবি হতে মাসুদের অন্তর্ভুক্তি হয় সেনাবাহিনীতে।



