ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়। ছুটির আমেজ কাটিয়ে প্রথম কার্যদিবসেই সকাল থেকে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ৯টার কিছু পর সচিবালয়ে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর শুরু হয় একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও কর্মসূচি। দিনটির শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন। এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এরপর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক ঋণ, মুদ্রাস্ফীতি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা—এসব ইস্যু বৈঠকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে।
বেলা ১১টার দিকে রাজধানী ঢাকা (Dhaka)-র দীর্ঘদিনের অন্যতম জটিল সমস্যা যানজট নিরসনে একটি বিশেষ বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। নগরবাসীর দৈনন্দিন ভোগান্তি কমাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও কার্যকর সমাধান খোঁজার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে এই বৈঠকে।
দুপুরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রবাসী কল্যাণ সংক্রান্ত কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই বৈঠকে বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন বাজার, শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিকেলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। ধারাবাহিক এই বৈঠকগুলোতে সরকারের বিভিন্ন খাতের কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণের দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
উল্লেখ্য, টানা সাত দিনের ঈদের ছুটি শেষে আজ থেকে খুলেছে বাংলাদেশ সচিবালয় (Bangladesh Secretariat)-সহ দেশের সব সরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। তবে উৎসবের আবহ কাটিয়ে দ্রুতই প্রশাসনিক ব্যস্ততায় ফিরে গেছে পুরো সচিবালয় এলাকা।


