মানব পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (Masud Uddin Chowdhury)-কে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রিমান্ড শুনানির জন্য ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে, শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাকে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে লক্ষ্য করে পচা ডিম নিক্ষেপ করে এবং বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
বিকেলে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (Chief Metropolitan Magistrate Court)-এ তোলা হয়। এ সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (DB Police) তার বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ (Aminul Islam Junaid) সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতার একজন জানান, ক্ষোভ প্রকাশ করতেই তিনি ডিম নিক্ষেপ করেছেন এবং সুযোগ পেলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন।
শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি।
ডিবি পুলিশ (Detective Branch) সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, চাঁদাবাজি এবং হ’\ত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া ফেনীতেও একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
এর আগে সোমবার গভীর রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে এবং পরবর্তীতে তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
২০০৭ সালের এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তিনি তার অধীনস্থ ব্যাটালিয়নের সহযোগিতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ভবন, বঙ্গভবনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। সে সময় সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। তার নেতৃত্বাধীন কথিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, যা সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ২০০৮ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান এবং পরবর্তীতে তার চাকরির মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। কথিত আছে সেনা প্রধান মঈন উদ্দিন আহমেদকে সামনে রেখে ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তত্বাবধায়ক সরকার বসানোর মূল পরিকল্পনা ছিলো তারই ছিল।


