পবিত্র ঈদুল ফিতরের আবহ এখনো পুরোপুরি ম্লান হয়নি। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে উৎসবের রেশে অনেকেই এখনও ছুটির আমেজে আছেন, কর্মস্থলে ফেরেননি সবাই। তবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর কাছে ব্যক্তিগত অবকাশের চেয়ে রাষ্ট্রীয় কর্তব্যই হয়ে উঠেছে সর্বাগ্রে। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবসেই দীর্ঘ কর্মঘণ্টার মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) ঈদুল ফিতরের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সচিবালয়ে অবস্থান করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন (Atikur Rahman Rumon) জানান, সকাল ৯টা ০১ মিনিটে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী এবং টানা কাজ শেষে সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে অফিস ত্যাগ করেন। অর্থাৎ প্রথম দিনেই প্রায় ১১ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
অফিসে পৌঁছেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। দিনের সূচনাতেই আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সহযোগিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (International Monetary Fund)-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। এরপর দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন, যেখানে দেশের শ্রমবাজার ও প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ নিয়ে আলোচনা হয়।
এরপর রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন নিয়ে আরেকটি জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলের দিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ, দাপ্তরিক ফাইল পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সময় দেন তিনি। সব মিলিয়ে দিনটি ছিল ব্যস্ততা ও দায়িত্ব পালনের এক নিবিড় উদাহরণ।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই নিরবচ্ছিন্ন কর্মযজ্ঞ শুধু একটি দিনের কার্যক্রম নয়, বরং একজন রাষ্ট্রনেতার দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। তার ভাষায়, দায়িত্বের কাছে ব্যক্তিগত অবকাশ অনেক সময়ই ম্লান হয়ে যায়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঈদের পরের এই প্রথম কর্মদিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির তালিকা নয়; বরং এটি রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের একটি দৃশ্যমান উদাহরণ হয়ে থাকবে।


