সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক: ৪২ অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা শুরু

জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন এমপির সভাপতিত্বে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা মোট ৪২টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যা ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকের সূচনায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্র-জনতার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এই আবেগঘন মুহূর্তের মধ্য দিয়েই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা। তাদের মধ্যে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এমপি, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এমপি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক এমপি, এ. এম. মাহবুব উদ্দিন এমপি, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি, মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি, মো. মুজিবুর রহমান এমপি, মো. রফিকুল ইসলাম খান এমপি এবং জি. এম. নজরুল ইসলাম এমপি।

আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত অধ্যাদেশগুলোর পরিধি ছিল বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল “দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫”, “বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (Special Security Force) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪”, “মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫” এবং “বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫”। এছাড়া বৈদেশিক অনুদান, সরকারি চাকরির বয়সসীমা নির্ধারণ, গুম প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, মানব পাচার প্রতিরোধসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে প্রণীত অধ্যাদেশগুলো নিয়েও গভীর পর্যালোচনা করা হয়।

অন্যদিকে পরিবেশ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্পর্কিত অধ্যাদেশ যেমন বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সংশোধনী অধ্যাদেশগুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন, বেসামরিক বিমান চলাচল, ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন খাতের সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়েও মতবিনিময় হয়।

সংস্কৃতি ও ক্রীড়া খাতও আলোচনার বাইরে ছিল না। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সংশোধনী অধ্যাদেশগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে আঞ্চলিক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ যেমন বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সম্পর্কিত প্রস্তাবনাও বিবেচনায় আসে।

বৈঠকের শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, পরবর্তী বৈঠকে অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। কমিটি প্রতিটি অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা যাচাই করে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আকারে তা জাতীয় সংসদের অধিবেশনে উপস্থাপন করবে।

এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ (Bangladesh Parliament) সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় (Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs)-এর সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, যারা আলোচনায় প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *