ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, পৃথিবী যতদিন টিকে থাকবে, ততদিন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে যাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)। তার ভাষায়, মুক্তিযোদ্ধারা এই জাতির গর্বিত সন্তান, যাদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে স্বাধীন বাংলাদেশ। লাখ লাখ শহীদের রক্ত এবং অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আবহে ছিল স্বাধীনতার স্মৃতি, ত্যাগের ইতিহাস এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের মিশ্র প্রতিফলন।
আমান উল্লাহ আমান তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ঘটে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জিয়াউর রহমান শুধু ঘোষণাকারীই নন, বরং যুদ্ধকালীন একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশের প্রতিটি সংকটময় সময়ে জিয়া পরিবার সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছে।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়া-র নেতৃত্বে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তা ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে জনগণকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। তার কথায়, “বিএনপি যা বলে, তা করে”—এটি শুধু একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং বাস্তবতার প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া, দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফতাব আহমেদ, কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী শামীম হাসান, সাধারণ সম্পাদক হাসমত উল্লাহ নবীসহ আরও অনেক নেতাকর্মী।


