পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রায় দুই লাখ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে তিনটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর (Chattogram Port)-এ ভিড়তে যাচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। এরই মধ্যে একটি জাহাজ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় পৌঁছেছে, আর বাকি দুটি আগামী বুধবারের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে তিনটি জাহাজে এলএনজি’র পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন।
বন্দর সূত্র জানায়, অস্ট্রেলিয়া (Australia) থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি বহনকারী ‘এইচএল পাফিন’ নামের ট্যাংকারটি বৃহস্পতিবার কুতুবদিয়া উপকূলে নোঙর করেছে। একই সময়ে ইন্দোনেশিয়া (Indonesia) থেকে ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র (United States) থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও দুটি জাহাজ বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
এই দুটি জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানান, বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী ট্যাংকার দুটি নির্ধারিত সময়েই বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির বড় একটি অংশ—প্রায় ৭০ শতাংশ—এসে থাকে কাতার (Qatar) থেকে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাতার থেকে দুটি এলএনজি ট্যাংকার আসার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এর মধ্যে একটি ট্যাংকার রাস লাফান বন্দর থেকে এলএনজি বোঝাই অবস্থায় এখনও আটকে রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা (Petrobangla) দেশের জন্য এলএনজি আমদানির দায়িত্ব পালন করে থাকে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা বিবেচনায় বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি জটিল থাকলেও আপাতত বড় ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি হবে না বলেই তাঁদের ধারণা।


