বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) বলেছেন, মহান স্বাধীনতা দিবসের ৫৫ বছর পার হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী ও পাকিস্তানপন্থি অপশক্তি থেমে নেই; বরং নতুন আঙ্গিকে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে। এই অপশক্তিকে প্রতিহত করা এখন সময়ের দাবি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, স্বাধীনতার চেতনা শুধু অতীতের গৌরব নয়—এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের লড়াইয়েরও ভিত্তি।
ফখরুল বলেন, স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সবাইকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে। তিনি ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, যেভাবে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগীরা তখন সক্রিয় ছিল, আজও সেই শক্তি ভিন্ন মোড়কে রাজনীতির মঞ্চে ফিরে আসার চেষ্টা করছে।
তার ভাষায়, “এই অপশক্তিকে রুখতেই হবে। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ওপর যেকোনো আঘাত প্রতিহত করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা ছাড়া বিকল্প নেই।”
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের ভুলচুক কিংবা পিছিয়ে পড়া মানসিকতা থেকে বের হয়ে এসে আধুনিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দিকে মনোনিবেশ করা জরুরি। কেবল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নয়, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপশক্তিকে পরাস্ত করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর নেতৃত্বকে আরও সুসংহত করতে হবে। তার মতে, সংগঠনের ভেতরে ঐক্য ও দৃঢ়তা থাকলেই যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বলেন—১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস অনন্য, যার সত্যতা নিয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। এই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া সকলের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


