স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন এক মাইলফলক, যা অন্য কোনো সময় বা ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, “একাত্তর আগে, বাকি সব পরে”—এই সত্যকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই, এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) কখনোই কারও অবদান খাটো করে না।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত বিএনপির আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই জেনে এসেছে যে ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা সম্প্রচারিত হয়। সে সময়ের মেজর জিয়াউর রহমান প্রভিশনাল হেড অব দ্য স্টেট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন—যা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রাণ দিয়েছেন এবং যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন—তাদের প্রত্যেকের অবদান জাতির সামনে স্বীকৃত হওয়া উচিত। “আমরা কারও বিজয় ছিনিয়ে নিতে চাই না,” বলেন তিনি, “বরং সবাইকে একত্রে একাত্তরের ইতিহাসকে সম্মান জানাতে হবে।”
বর্তমান প্রজন্মের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার মর্যাদা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। তাঁর মতে, শিক্ষার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি, যাতে এই চেতনা কখনো ম্লান না হয়। একাত্তরের বীরেরা যে ত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তা ধরে রাখা পুরো জাতির দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাজীবী ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা সভায় শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনার সারসংক্ষেপে উঠে আসে একটি সুস্পষ্ট বার্তা—একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য ও অবিসংবাদিত। এই অধ্যায়কে অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে তুলনা করা কিংবা মেলানোর কোনো সুযোগ নেই।


