অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুতের প্রবণতা ঠেকাতে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে এ ধরনের মজুতদারির প্রমাণ দিলে তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পর্যায়ে ‘ভিজিল্যান্স টিম’ গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি জেলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এই বিশেষ নজরদারি দল কাজ করবে। তাদের দায়িত্ব থাকবে ডিপো থেকে শুরু করে পেট্রোল পাম্প এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিতরণ প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা। কোথাও কোনো অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হচ্ছে কিনা, তা দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াই হবে তাদের মূল লক্ষ্য।
এদিকে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে সরকার। অবৈধভাবে তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে জেল ও অর্থদণ্ড—দুই ধরনের শাস্তিই নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু শাস্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এই উদ্যোগ। বরং সাধারণ মানুষকেও এতে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে। কেউ যদি অবৈধ মজুতদারির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করেন, তাহলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে। সরকারের আশা, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে যেমন অনিয়ম কমবে, অন্যদিকে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সহজ হবে।


