বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে সামনে রেখে এবং জনগণের আস্থা অর্জনে আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি দৃঢ় আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed)।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী (Bangladesh Police Academy), সারদা, রাজশাহীর প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের এক বছর মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের অভিবাদন গ্রহণ করেন, প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে পদক বিতরণ করেন।
বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের এই সময়ে নবীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, সেখানে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে কাজ করতে হবে। এই লক্ষ্যে সরকার একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জনগণের সেবক হোন। অপরাধীর মনে ভয় এবং নিরপরাধ মানুষের মনে নিরাপত্তা ও প্রশান্তি সৃষ্টি করাই হবে আপনার মূল দায়িত্ব।” তিনি আরও জানান, ব্রিটিশ আমলের পুরোনো পুলিশ আইন পরিবর্তন করে সময়োপযোগী আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ এবং ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আইনের প্রতি অবিচল আস্থা এবং নাগরিকদের প্রতি জবাবদিহিতাই হবে একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাজের ভিত্তি। আইনের চোখে সবাই সমান—সে রাজনৈতিক কর্মী হোক কিংবা প্রান্তিক কৃষক। বাহিনীর শক্তি নির্ভর করে চেইন অফ কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য এবং সমন্বিত নেতৃত্বের ওপর—এই বিষয়গুলোর প্রতিও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।
পুলিশের পোশাক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান পোশাক নিয়ে বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এ কারণে পূর্বের কোনো উপযুক্ত পোশাক পুনর্বহালের বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
২০২৫ সালের ১ মার্চ শুরু হওয়া এই ব্যাচে মোট ৭২ জন শিক্ষানবিস অংশগ্রহণ করেন। প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এএসপি আহমেদ সাদমান সাকিব। প্রশিক্ষণে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য এএসপি মোঃ ফাহিম ফয়সাল ‘বেস্ট প্রবেশনার’ ও ‘বেস্ট একাডেমিক’ হিসেবে স্বীকৃতি পান। এছাড়া মোঃ আরাফাত হোসেন ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’, শাওন রেজা ‘বেস্ট হর্সম্যানশিপ’ এবং বাপী কুমার দাশ ‘বেস্ট শ্যুটার’ হিসেবে পুরস্কৃত হন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ মোঃ আলী হোসেন ফকির (Md. Ali Hossain Fakir), বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীর প্রিন্সিপাল (অ্যাডিশনাল আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমান, জাতীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং নবীন কর্মকর্তাদের পরিবার সদস্যরা।
পাসিং আউট প্যারেড শেষে নবীন সহকারী পুলিশ সুপারগণ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছয় মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য পদায়িত হবেন।


