স্বাধীনতা আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন—মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর দৃঢ় উচ্চারণ

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান (Ahmed Azam Khan) বলেছেন, হাজার বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও গর্বের অর্জন হলো স্বাধীনতা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, এই স্বাধীনতা একবারই অর্জিত হয়েছে—এর আগে কখনো আসেনি, ভবিষ্যতেও আর আসবে না। তাই জাতির পরিচয় ও ঠিকানা একটাই—মুক্তিযুদ্ধ এবং ’৭১।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (Dhaka South City Corporation)। নগর ভবনে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনায় মন্ত্রী দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলোও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, আর ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়েছে—যা নিঃসন্দেহে বড় রাজনৈতিক অর্জন। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, এসব অর্জনকে যদি স্বাধীনতার সমতুল্য ভাবা হয়, তাহলে তা জাতির জন্য মারাত্মক বিভ্রান্তি ও বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। স্বাধীনতা একক এবং অনন্য—এর সঙ্গে অন্য কিছু তুলনীয় নয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম (Md. Abdus Salam)। এতে ঢাকা মহানগরীর প্রায় দেড় হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

পরে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক, ফুলেল শুভেচ্ছা এবং উত্তরীয়। অনুষ্ঠানে একাত্তরের স্মৃতিচারণ করেন ক্যাপ্টেন নুরুল হুদা (Captain Nurul Huda), পাশাপাশি বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

মন্ত্রী এ সময় আরও জানান, তার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে—যেখানে প্রকৃত শহীদ, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বেতন-ভাতা, আবাসন এবং চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে মো. আব্দুস সালাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান না দিলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো নির্দিষ্ট দলের নন—তারা সমগ্র জাতির। দেশের প্রকৃত মালিকানা তাদের প্রাপ্য হলেও তারা সবসময় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়েছেন।

তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, উন্নত আবাসন এবং পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আয়োজন করা হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বেবি নাজনীন (Baby Naznin), রিজিয়া পারভীন (Rizia Parveen)সহ প্রখ্যাত শিল্পীরা অংশ নেন। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশন করে অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *