জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে রাস্তা অবরোধ করলে ভবিষ্যতে দলীয় কার্যালয়ে আর আসবেন না—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমান (Tarique Rahman)। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে নয়াপল্টন (Naya Paltan)-এ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সরাসরি এই সতর্কতা দেন।
সমবেত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘এভাবে রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। আমাদের স্বাভাবিকভাবে অফিসে আসতে হবে, যাতে সব কিছু স্বাভাবিকভাবে চলে। আমি আবারও অফিসে আসব, কিন্তু রাস্তা বন্ধ থাকলে আমার পক্ষে আসা সম্ভব হবে না। আমি কি বোঝাতে পেরেছি? রাস্তা বন্ধ করা যাবে না।’
তার বক্তব্যে ছিল এক ধরনের দৃঢ়তা, সঙ্গে জনদুর্ভোগ নিয়ে স্পষ্ট উদ্বেগ। তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যদি আমাকে পল্টন অফিসে দেখতে চান, তাহলে রাস্তার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে হবে। মানুষের চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া যাবে না। আগামী আধা ঘণ্টার মধ্যে রাস্তা পরিষ্কার করতে হবে।’
দেশের মানুষের প্রত্যাশার প্রসঙ্গ টেনে তিনি নেতা-কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেন দায়িত্বশীল আচরণের কথা। ‘সারাদেশের নেতা-কর্মীদের আইনের মধ্যে থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে মানুষের কষ্ট বা অসুবিধা হয়,’—বলেন তিনি।
এ সময় দেশের বিদ্যমান নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে ধৈর্যের সঙ্গে মানুষের সেবা করার আহ্বানও জানান তিনি। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সরাসরি নির্দেশনা দেন—‘সবাই বাঁ দিকে চেপে দাঁড়ান, রাস্তা খুলে দিন। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমি নিয়মিত অফিসে আসতে পারব, না হলে পারব না। আমরা নিশ্চয়ই দেশের মানুষের সমস্যার কারণ হতে চাই না।’
তার এই আকস্মিক ও কঠোর নির্দেশনার পর নয়াপল্টন এলাকায় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে দ্রুত সাড়া দেখা যায়। তারা অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা ছেড়ে দেন, ফলে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।


