এক-এগারো সরকারের আরেক আলোচিত কুশীলব, ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্তকৃত) মো. আফজাল নাছের (৬১) অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলেন। সোমবার (৩০ মার্চ) ভোররাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের ১২ নম্বর সড়কের ৮৬৪ নম্বর বাসা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (Dhaka Metropolitan Police)-এর গোয়েন্দা শাখা, ডিবি।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ডিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্র। তবে কোন মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে গ্রেফতার ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন ও জল্পনা।
এর আগে একই ধারাবাহিকতায় এক-এগারো সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুই বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা—লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (Masud Uddin Chowdhury) এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ (Sheikh Mamun Khaled)—কে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তারা ডিবি হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মো. আফজাল নাছের ২০০৭ সালের জুন থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআই (Directorate General of Forces Intelligence)-এর মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময়ের রাজনৈতিক পটভূমিতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী এক ব্যক্তি।
অভিযোগ রয়েছে, এক-এগারো সরকারের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর ওপর চালানো নির্যাতনের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন আফজাল নাছের। শুধু পরিকল্পনা নয়, যে স্থানে তাকে নির্যাতন করা হয়, সেখানে তিনি সরাসরি উপস্থিত ছিলেন বলেও জানা গেছে।
তার সামরিক জীবনের সমাপ্তি ঘটে ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর, যখন তাকে বরখাস্ত করা হয়। নোয়াখালীর সেনবাগে তার গ্রামের বাড়ি। ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল তার কর্মজীবন।
দীর্ঘ সময় পর এই গ্রেফতার এক-এগারো অধ্যায়ের অন্ধকার দিকগুলোকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে—যেখানে ক্ষমতা, প্রভাব ও মানবাধিকারের প্রশ্নগুলো নতুন করে আলোচনায় আসছে।


