ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানে এক নাটকীয় সামরিক তৎপরতায় বড় ধরনের হা’\মলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শহরটির একটি বড় গোলাবারুদের ডিপো লক্ষ্য করে দুই হাজার পাউন্ড ওজনের বাঙ্কার-ব্লাস্টার বো’\মা ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (৩১ মার্চ) এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (The Wall Street Journal)। ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শক্তিশালী বাঙ্কারভেদী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা মাটির গভীরে থাকা স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলার ফলে একের পর এক শক্তিশালী দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে, যা বিশাল আগুনের গোলা ও শকওয়েভ তৈরি করে চারপাশ কাঁপিয়ে দেয়।
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্যানুসারে, ইসফাহানের ওই ডিপোতে যুক্তরাষ্ট্র ২ হাজা পাউন্ড ওজনের ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা ব্যবহার করে হামলা চালায়।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওটিতে রাতের আকাশজুড়ে ধারাবাহিক বি’\স্ফো’\রণ দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ওই ভিডিওতেই এই হা’\মলার দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে।
ইকোনমিক টাইমস (Economic Times)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসফাহান ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর, যা রাজধানী তেহরানের দক্ষিণে জায়ানদেহ নদীর তীরে অবস্থিত। শহরটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সামরিক অবকাঠামো এবং জাতীয় প্রতীকের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।
এই শহরেই রয়েছে ইরানের নিউক্লিয়ার ফুয়েল রিসার্চ অ্যান্ড প্রোডাকশন সেন্টার, যা ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এখানে অবস্থিত ইরান এয়ারক্রাফট ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানি, যারা মহাকাশ গবেষণা, হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে বিশেষজ্ঞ।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসফাহানের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান তাদের আনুমানিক ৫৪০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ এই শহরের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে স্থানান্তর করে থাকতে পারে, যা অঞ্চলটিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
হিন্দুস্তান টাইমস (Hindustan Times)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাঙ্কার-বাস্টার বো’\মা এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে এটি সরাসরি বি’\স্ফো’\রণের আগে শক্ত অবকাঠামো ভেদ করে গভীরে প্রবেশ করতে পারে। সাধারণত ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা, সুরক্ষিত বাঙ্কার বা পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংসে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
এই ধরনের অস্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (এমওপি)। প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের এই বো’\মাটি তৈরি করেছে বোয়িং। শক্ত ইস্পাতের আবরণ এবং নির্ভুল জিপিএস প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই অস্ত্রটি কংক্রিট ও পাথরের একাধিক স্তর ভেদ করে গভীরে গিয়ে বি’\স্ফো’\রণ ঘটাতে সক্ষম।
এমওপি এতটাই বড় যে এটি বহনে ব্যবহৃত হয় কেবল বি-২ স্পিরিট বিমান, যা উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে অত্যন্ত সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৈরি। যদিও ইসফাহানের এই অভিযানে তুলনামূলক ছোট সংস্করণের বাঙ্কার-বাস্টার ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে, তবে এর লক্ষ্য ছিল একই—মাটির গভীরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করা।


