‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতারণার দলিল’—সংসদে কড়া মন্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed) বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ আসলে অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার একটি দলিল। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad)-এ ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ বিষয়ক নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের আর্টিকেল ৭২ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন। যখন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়া হয়েছিল, তখন সংবিধান এবং রাষ্ট্রপতির অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ ছিল না। অথচ এখন যে আদেশ জারি করা হয়েছে, তা কোনো বৈধ আইন নয়।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ধারা ১৭/২ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির এখতিয়ার নেই। তার ভাষায়, ‘এই আদেশের জন্মই অবৈধ। এটি একটি নিউট্রাল জেন্ডার আদেশ, যার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতারণার বহিঃপ্রকাশ।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP)-এর অবস্থান নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তিরও জবাব দেন তিনি। বলেন, ‘বিএনপি সংস্কারের বিরোধী কিংবা জুলাই জাতীয় সনদ অস্বীকার করে—এমন প্রচারণা ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। বাস্তবে জুলাই সনদের প্রতিটি বাক্য আমরা ধারণ করি। এটি একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলিল।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল থেকেই রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা রহিত রয়েছে। তিনি কোনো আদেশের মাধ্যমে সার্বভৌম সংসদের ক্ষমতা খর্ব করতে পারেন না।’

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনরায়কে সম্মান জানানো জরুরি। কিন্তু যেখানে ৭০ শতাংশ মানুষের মতামত প্রত্যাশিত ছিল, সেখানে তাদের স্পষ্টভাবে “হ্যাঁ” বা “না” বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই আদেশ সম্পূর্ণভাবে এখতিয়ারবহির্ভূত।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘অধ্যাদেশের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি সার্বভৌম ক্ষমতা খর্ব করেছেন এবং অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। নোট অব ডিসেন্টসহ প্রশ্নগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি—এটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতারণা। চারটি প্রশ্নের জবাব একটিতে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, যা জনগণের মতামতকে বিকৃত করেছে।’

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতিকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলাম—আপনি কি এই আদেশ জারি করতে পারেন? তিনি বলেছিলেন, তিনি নিজে তা করতে পারেন না, তাকে বাধ্য করা হচ্ছে। এটি যেন রাজহংসীকে জোর করে সোনার ডিম পাড়ানোর মতো—শেষ পর্যন্ত সেটি অবৈধ ডিম হিসেবেই বিবেচিত হবে।’

এছাড়া সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথসংক্রান্ত নথি সংসদে পাঠানোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার বক্তব্য, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের এই নথি সংসদে পাঠানোর কোনো এখতিয়ার ছিল না। কীভাবে এই কাগজ সংসদ সদস্যদের হাতে পৌঁছাল, তা জানতে আমি সংসদ সচিবের কাছে জানতে চাই।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *