চার দিনের সরকারি সফর শেষে নিজ জেলা পাবনা থেকে রাজধানী ঢাকায় ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (Mohammad Shahabuddin)। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে পাবনা ক্যাডেট কলেজ মাঠের হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারযোগে তিনি বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা দেন।
এর আগে শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে বঙ্গভবন থেকে যাত্রা করে পাবনা শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে অবতরণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর চার দিনের সফর। সেখানে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পাবনায় পৌঁছে তিনি সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন এবং জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সফরের দ্বিতীয় দিন রবিবার (২৯ মার্চ) তিনি যান পাবনা সদর উপজেলার আরিফপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে। সেখানে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে কিছু সময় নীরবে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। উপস্থিত স্থানীয়দের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কুশল বিনিময়ও করেন তিনি।
একই দিনের সন্ধ্যায় পাবনা প্রেসক্লাব (Pabna Press Club)-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি। তবে এই আয়োজন ঘিরে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে কিছুটা রেষারেষি এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (Special Security Force – SSF)-এর অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তথ্য সংগ্রহে কিছুটা বিঘ্নের কথাও সামনে আসে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সফরের তৃতীয় দিনে রাষ্ট্রপতি পাবনা সদর উপজেলার ভবানীপুর মসজিদ পরিদর্শন করেন এবং নিজ বাসভবনে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটান। একই দিন তিনি পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (Pabna Chamber of Commerce and Industry – PCCI)-এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সার্কিট হাউসে বৈঠক করেন। এ সময় তারা জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। রাষ্ট্রপতি এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে জেলার সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
এ ছাড়া ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব (Ishwardi Press Club)-এর সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সফরের অংশ হিসেবে তিনি পাবনা সদরের চরভবানীপুর এলাকায় একটি শাহী জামে মসজিদের নির্মাণকাজের অগ্রগতিও পরিদর্শন করেন।
পুরো সফরজুড়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাতে রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়।


