দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিপুল সংখ্যক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে—এমন চিত্রই উঠে এসেছে জাতীয় সংসদে দেওয়া এক সরকারি তথ্যে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে জানান, বর্তমানে দেশে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি সরকারি পদ শূন্য রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘স্ট্যাটিস্টিক্স অব পাবলিক সার্ভেন্ট’ প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন। সেই অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন।
তবে এই বিশাল কর্মীসংখ্যার মাঝেও শূন্য পদের পরিমাণ উদ্বেগজনক। তথ্য অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির পদে বর্তমানে ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন কর্মরত থাকলেও শূন্য রয়েছে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত আছেন ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, যেখানে শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি।
একইভাবে তৃতীয় শ্রেণিতে কর্মরত রয়েছেন ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, কিন্তু এই স্তরেই শূন্য পদের সংখ্যা ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি। চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৭৭ জন কর্মরত থাকলেও এখানে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ ফাঁকা রয়েছে। অন্যদিকে, অন্যান্য ক্যাটাগরিতে কর্মরত ৭ হাজার ৯৮০ জনের বিপরীতে শূন্য রয়েছে আরও ৮ হাজার ১৩৬টি পদ।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই পরিসংখ্যানের বাইরে অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীরাও বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করছেন, তবে তারা সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় পড়েন না।
পরবর্তীতে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম এই বিপুল সংখ্যক শূন্য পদ পূরণের নির্দিষ্ট সময়সীমা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শূন্য পদ পূরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। নির্ধারিত বিধি-বিধান অনুসরণ করেই এসব পদ পূরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং এটি কোনো এককালীন উদ্যোগ নয়।


