পরিশোধিত ডিজেলসহ রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় (ওয়েভার) চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়টি সামনে এসেছে ড. খলিলুর রহমান (Dr. Khalilur Rahman) এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট (Chris Wright)-এর মধ্যে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে।
মঙ্গলবারের ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চলমান বিঘ্নের প্রভাব এখন সরাসরি দেশের জ্বালানি খাতে পড়ছে। বিশেষ করে সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ রোপণ মৌসুমকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃষকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে—যা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ড. খলিলুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র যে সীমিত বৈশ্বিক ছাড় দিয়েছিল, তা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারেনি। কারণ সেই সময় রাশিয়া থেকে কোনো তেলবাহী ট্যাংকার বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেনি। ফলে বাস্তব পরিস্থিতিতে ওই সুযোগটি কার্যকর হয়নি।
বৈঠকে বিকল্প পথ হিসেবেও আলোচনা উঠে আসে—রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পরিশোধন করে বাংলাদেশে আমদানি করা যেতে পারে কি না। এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের তাৎক্ষণিক জ্বালানি চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করা অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথা জানান।
এছাড়া বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকেও আলোচনা হয়। টেকসই জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পণ্য আমদানির সম্ভাবনা বিস্তারের বিষয়টিও গুরুত্ব পায় আলোচনায়। এতে দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ জ্বালানি অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম (Tareq Md. Ariful Islam), ডেপুটি চিফ অব মিশন ডি এম সালাহউদ্দিন মাহমুদ (D M Salahuddin Mahmud) এবং ইকোনমিক মিনিস্টার ড. মো. ফজলে রাব্বি (Dr. Md. Fazle Rabbi)।


