আগামী ৪ এপ্রিল বিকেল ৫টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। এ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার সুর তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১১টায় গুলশানে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠক থেকে এই সিদ্ধান্ত আসে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman), যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা।
এ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মামুনুল হক (Mamunul Haque), খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আবদুল মাজেদ আতহারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশির।
বৈঠক শেষে সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সরকার গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে, যা জনগণের মতামতকে অবজ্ঞা করার শামিল এবং অতীতের রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী।
তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, সংবিধান সংশোধন সংসদের এখতিয়ারভুক্ত একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও, এর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা যায় না। যদি বিশেষ প্রয়োজনে মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের প্রশ্ন আসে, তবে তার বৈধ পথ হলো জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণের জন্য গণভোট আয়োজন এবং একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা।
ড. আযাদ অভিযোগ করেন, অতীতে সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের পথ সুগম করা হয়েছিল এবং বর্তমান সরকারও একই ধারা অনুসরণ করছে। তাই সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে প্রকৃত সংস্কার জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় তিনি দেশের জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর সরকারি সিদ্ধান্তেরও কঠোর সমালোচনা করেন। তার মতে, বাস্তবে জ্বালানি সংকট বিদ্যমান থাকলেও সরকার তা স্বীকার করছে না। অন্যদিকে, স্কুল পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক মেধা বিকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অবিলম্বে গণভোটের ফল বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়, এসব দাবি পূরণ না হলে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এই প্রেক্ষাপটে ৪ এপ্রিল বিকেল ৫টায় বায়তুল মোকাররম (Baitul Mukarram)-এর উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ এবং জনমত গঠনের জন্য ধারাবাহিক কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।


