সংসদ ভবনে প্রবেশের মুহূর্তেই হঠাৎ এক অপ্রত্যাশিত মন্তব্য—আর তাতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদউদ্দীন আহমাদ হানজালা অভিযোগ করেছেন, তাকে ‘জ’\ঙ্গি’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে সংসদ প্রাঙ্গণেই। বিষয়টি তিনি কেবল ব্যক্তিগত অপমান হিসেবেই দেখছেন না, বরং জাতীয় সংসদের মর্যাদার সঙ্গেও জড়িত বলে মনে করছেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিয়ে তিনি এই অভিযোগ তোলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সেখানেই হানজালা তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, গত ২৩ মার্চ স্পিকারের সহধর্মিণীর জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে দক্ষিণ প্লাজা দিয়ে প্রবেশের সময় পেছন থেকে কেউ একজন তাকে উদ্দেশ করে বলে ওঠে—‘ওই যে জ’\ঙ্গি এমপি যাচ্ছে’।
এই মন্তব্যকে তিনি শুধু কটূক্তি হিসেবে নয়, বরং একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার বলেও ইঙ্গিত দেন। তার ভাষায়, “একটু পরেই দেখি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, আলোচনা হচ্ছে। সংসদের একজন সদস্যকে এভাবে সম্বোধন করা হলে তা পুরো সংসদেরই মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।”
এই ঘটনার পেছনে সম্ভাব্য কারণ নিয়েও নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। তার মতে, তার মাথায় পাগড়ি এবং সুন্নত অনুসরণ করে সাদা পাঞ্জাবি পরার কারণেই হয়তো তাকে এভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “এই পোশাক কোনোভাবেই জ’\ঙ্গির প্রতীক হতে পারে না।”
তিনি স্পিকারের কাছে দাবি জানান, সংসদ ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দায়ীদের চিহ্নিত করতে এবং এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সার্জেন্ট এট আর্মসকে নির্দেশ দিতে।
এদিকে একই অধিবেশনে আরেকটি বিষয় তুলে ধরেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদেরই একজন পুরুষ সদস্য দুই নারী এমপিকে নিয়ে প্রকাশ্যে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় ওয়াজ করেছেন, যা অত্যন্ত অশোভন এবং অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, “এই ধরনের বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, এটি সংসদের পরিবেশকেই কলুষিত করে।”
রুমিন ফারহানা স্পিকারের কাছে এ ঘটনারও বিচার দাবি করেন এবং সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
উভয় অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়গুলো অত্যন্ত দুঃখজনক এবং গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিশেষ অধিকার প্রশ্নে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং আশ্বাস দেন যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।


