ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এইচ.ই. এম. হামিদুল্লাহ দিল্লিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। বুধবার (২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎ শুধু আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বিনিময়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়েই মূলত বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারণ এবং সামরিক পর্যায়ে সমন্বয় বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল। দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি নতুন উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও মতবিনিময় করেন তারা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের আলোচনা ভবিষ্যতে যৌথ মহড়া ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বিনিময়ের পথকে আরও সুগম করতে পারে।
এছাড়া আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নেও দুই পক্ষ তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সহযোগিতা কীভাবে আরও গভীর করা যায়, তা নিয়েও ছিল বিস্তারিত আলাপ। উভয় পক্ষই স্থিতিশীলতা রক্ষায় সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আলোচনায় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার দিকে নজর দিচ্ছে উভয় দেশ।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ (Bangladesh) ও ভারত (India)-এর মধ্যে সামরিক সম্পর্ক ক্রমেই নতুন মাত্রা পাচ্ছে, এবং এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেই সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে সমন্বিত অবস্থান গড়ে তুলতে এ ধরনের সংলাপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: ভারতীয় সেনাবাহিনীর এডিজিপিআই (ADGPI)


