জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১৫৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, নতুন কূপ খননে বড় পরিকল্পনার কথা জানালেন জ্বালানি মন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পেট্রোবাংলা গৃহীত বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনার আওতায় সব কূপ খনন কাজ সফলভাবে শেষ হলে আনুমানিক ১ হাজার ৫৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এতে দেশের দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট নিরসনে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবুর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সরকার গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক স্তরে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং উত্তোলন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে আগামী এক বছরে মোট ১১৭টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার তত্ত্বাবধানে চলমান অনুসন্ধান, উন্নয়ন এবং ওয়ার্কওভার কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মপরিকল্পনার আওতায় ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ২৫টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে দৈনিক ২৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

এছাড়া, উৎপাদন-বণ্টন চুক্তির আওতায় স্থলভাগ ও সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান আরও জোরদার করতে পেট্রোবাংলা ‘অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ এবং ‘অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ প্রস্তুত করেছে। এসব মডেল বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা অনুমোদন পেলে ভবিষ্যতে জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ও অনুসন্ধান কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *