গণভোট নিয়ে দ্বিমুখী অবস্থান কেন—জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রশ্ন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান (Shafiqur Rahman) সংবিধান সংশোধনের বদলে সংস্কারের দাবি তুলে গণভোট ইস্যুতে সরকারের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, “আপনারা বলছেন সংবিধানে গণভোট নেই। কিন্তু যে দলের হাত ধরে বাংলাদেশের জন্ম, তাদের সময়েই তো দেশের প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তখন কি সংবিধানে কোনো সমস্যা হয়েছিল? যদি তখন জায়েজ হয়ে থাকে, এখন নাজায়েজ হয় কীভাবে?”

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ (South Keraniganj)-এর বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্প এলাকায় নাসিফ কনভেনশন হলে আয়োজিত থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর ঢাকা জেলার আমির ও কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য মোঃ দেলোয়ার হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মিলন এমপি এবং ঢাকা জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশে ইতোমধ্যে তিনটি গণভোটের ফল বাস্তবায়িত হয়েছে। চতুর্থ গণভোটের প্রস্তাবেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। এমনকি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)-এর প্রতিনিধিরাও বলেছিলেন, সংবিধানের সংস্কার প্রস্তাবগুলো আইনগতভাবে কার্যকর করতে গণভোট দরকার। কিন্তু নির্বাচনের পর হঠাৎ করে সেই অবস্থান বদলে গেল কেন?”

তিনি আরও বলেন, “একসময় বলা হয়েছিল—সবাই মিলে বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। কিন্তু আজ সেই চেতনা কোথায়? বাস্তবে তো ‘সবাই মিলে বাংলাদেশ’ ধারণাটিই হারিয়ে গেছে।”

প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তার ভাষায়, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিংবা তার আগেও এত প্রশাসক নিয়োগের নজির ছিল না। এখন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ—সব জায়গায় প্রশাসক বসানো হচ্ছে। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, এসব দায়িত্ব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের। অথচ আপনারা দলীয় লোকদের বসাচ্ছেন, যাদের অনেকেই নির্বাচনে সফল হতে পারেননি।”

জনগণের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনারা দাবি করেন ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু বাস্তবে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ দুটি ভোট দিয়েছিল—একটি জাতীয় সংসদের জন্য, আরেকটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’। আপনারা প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন, যদিও ভেতরে ভেতরে ছিলেন না। এখন বলছেন ৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, অথচ ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছে। তাহলে কোনটা বড়—৫১ না ৭০?”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “৭০ শতাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে এটাকে কীভাবে গণতন্ত্র বলা যায়? দেশে আজ ফ্যাসিবাদ নেই, সামরিক শাসনও নেই—তবুও মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।”

অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সংসদে বলা হচ্ছে দেশ তেলের ওপর ভাসছে। কিন্তু বাস্তবে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য হাহাকার চলছে। বোর্ডে লেখা আছে তেল আছে, কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও মানুষ তেল পাচ্ছে না। তাহলে এই বৈপরীত্য কেন? জাতির সঙ্গে এই তামাশার অর্থ কী?”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *