জুলাই সনদ কার্যকর করা এবং গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে আজ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। শনিবার (৪ এপ্রিল) বাদ আসর জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ (Hamidur Rahman Azad)। বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংসদের কার্যক্রম এবং জনদাবির প্রশ্নে সরকারের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আজাদ অভিযোগ করেন, সরকার সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তার দাবি, বর্তমান সরকারও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-এর মতোই ফ্যাসিবাদী পথে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, “জনস্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে আমাদের সামনে এখন রাজপথের আন্দোলন ছাড়া আর কোনো কার্যকর বিকল্প নেই।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, সংবিধান শুধুমাত্র সংশোধন নয়, বরং মৌলিকভাবে সংস্কার করতে হবে। তার ভাষায়, “সংবিধান সংশোধনের নামে সরকার মূলত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (Bangladesh Awami League)-এর পুরোনো পথেই হাঁটছে। জনগণের রায় যদি উপেক্ষিত হয়, তাহলে আন্দোলন অনিবার্য হয়ে ওঠে।”
১১ দলীয় জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে তিনি জানান, রাজপথের কর্মসূচিই এখন তাদের প্রধান কৌশল। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকালে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ (Baitul Mukarram National Mosque)-এর উত্তর গেটে বড় আকারের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এ সময় তিনি সংসদে সরকারি দলের মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন এবং চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলোতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
হামিদুর রহমান আজাদ সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ না নিলে ৭ এপ্রিল পুনরায় বৈঠকে বসবে ১১ দলীয় জোট। ওই বৈঠক থেকেই দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


