গণসংহতি আন্দোলনের ভেতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। দলটির প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (Jonayed Saki)। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেয়েছেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলন (Ganosamhati Andolon)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেই এ ঘোষণা দেন সাকি। এ সময় দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাকি বলেন, সরকার ও রাজনৈতিক দল—এই দুই কাঠামোর মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন থাকা প্রয়োজন। সেই জায়গা থেকেই তিনি দলীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি জানান, সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও মতবিরোধ রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামতই বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রাখবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
এর আগেই শুক্রবার দলীয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে এবং সেখানে সাকি নিজে উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলনে দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু, মনির উদ্দীন পাপ্পু, ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার এবং হাসান মারুফ রুমীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকার সাভারে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ৫৫ সদস্যের একটি নতুন নির্বাহী কমিটিও গঠন করা হয়।
দলের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট ‘জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার আহ্বান’ সামনে রেখে যাত্রা শুরু করে গণসংহতি আন্দোলন। দীর্ঘ আইনি ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার পর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (Bangladesh Election Commission)-এর কাছ থেকে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন লাভ করে দলটি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সাকির সাম্প্রতিক উত্থানও কম আলোচিত নয়। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)-এর জোটের শরিক হিসেবে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে ‘মাথাল’ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারে তাকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও পরে তাকে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে শুধুমাত্র পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রাখা হয়।


