চাকরির বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে চূড়ান্ত সময়সীমা, ১২ এপ্রিলের পর কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের দাবিতে এবার সময় বেঁধে দিলেন চাকরিপ্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত না এলে, সারা দেশে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

শনিবার (৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (Dhaka University Journalists Association)-তে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা আসে। সেখানে উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি শরিফুল হাসান শুভ (Shariful Hasan Shuvo)।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, দীর্ঘস্থায়ী সেশনজট এবং বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতার কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারেননি। এর ফলে সরকারি চাকরির আবেদন থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাদের কাছে স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক বলে মনে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা অস্থায়ীভাবে সর্বোচ্চ ৩৭ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করা প্রয়োজন।” একইসঙ্গে তিনি স্থায়ী সমাধান হিসেবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বয়সসীমা অন্তত ৩৫ বছর নির্ধারণের দাবি জানান।

দীর্ঘদিনের এই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শুভ বলেন, “প্রায় ১৪ বছর ধরে চাকরিপ্রত্যাশীরা এই দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে আশ্বাস মিললেও বাস্তব অগ্রগতি এখনো দৃশ্যমান হয়নি।”

সরকারি পর্যায়ের আলোচনা নিয়েও হতাশার ইঙ্গিত দেন তিনি। তার ভাষায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (Ministry of Public Administration)-এর প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী (Abdul Bari)-এর সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে, যেখানে নীতিগতভাবে বয়সসীমা ৩৫ বছর করার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এখনও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন—১২ এপ্রিলের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে, তারা দেশজুড়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *