প্রথা ভেঙে সচিবালয়ে একনেক বৈঠক, ১৭ উন্নয়ন প্রকল্পে অনুমোদন

নতুন সরকারের যাত্রার শুরুতেই অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক – ECNEC) প্রথম বৈঠক। সাধারণত উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের এই গুরুত্বপূর্ণ সভা শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষেই হয়ে থাকে। তবে এবার সেই দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে বৈঠকের স্থান নির্ধারণ করা হয় বাংলাদেশ সচিবালয় (Bangladesh Secretariat)-এর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। বৈঠকটি ঘিরে প্রশাসনিক মহলে ছিল বিশেষ আগ্রহ, কারণ নতুন সরকারের অধীনে এটি ছিল উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রথম বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণের মঞ্চ।

বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য মোট ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি হিসেবে তারেক রহমান এসব প্রস্তাবের ওপর আলোচনা পরিচালনা করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং প্রয়োজনীয় মতামত প্রদান করেন।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নদী, পানি ও জলবায়ু সংক্রান্ত চারটি প্রকল্প এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ভবিষ্যতের টেকসই উন্নয়নের দিকনির্দেশনা বহন করে। একই সঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়নে পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন খাতেও তিনটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারে সহায়ক হবে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে দুটি বড় প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং একটি ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ—যা দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

এছাড়া প্রযুক্তি উন্নয়ন সংক্রান্ত দুটি প্রকল্প এবং অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়ন ভিত্তিক একটি প্রকল্পও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকেই উন্নয়ন অগ্রাধিকারের একটি বিস্তৃত চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত পরিকল্পনার ছাপ স্পষ্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *