জাতীয় সংসদে আরপিও সংশোধনীসহ তিন বিল পাস, নির্বাচনী ব্যবস্থায় আসছে কাঠামোগত পরিবর্তন

নির্বাচন-সংক্রান্ত কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দি পিপলস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২৬’, ভোটার তালিকা সংশোধন বিল এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সংশোধন বিল—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সংসদে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলগুলো উত্থাপন করেন, যা পরে কণ্ঠভোটে অনুমোদন পায়।

সংসদ অধিবেশন শুরু হয় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে। অধিবেশনে আইনমন্ত্রী জানান, আরপিওর ২৭, ৩৭, ৩৯, ৮৯ ও ৯১ অনুচ্ছেদে সংশোধন আনার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পূর্বে তিনটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যা এখন পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হলো।

এই সংশোধনীগুলোর মধ্যে পোস্টাল ব্যালট পেপারের বিধান স্পষ্ট করা এবং নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা জোরদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা হালনাগাদের ক্ষেত্রে প্রতি বছরের ১ জানুয়ারির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত অন্য যেকোনো তারিখে ভোটার হওয়ার সুযোগ রাখার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দি পিপল অর্ডার ১৯৭২’ (Representation of the People Order 1972) সংশোধনের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে দুটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রথম বৈঠকের ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশকে বিল আকারে পাস করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই সংসদে বিলগুলো উত্থাপন ও পাস করা হয়েছে।

বিলগুলোর ওপর আলোচনার শুরুতে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান একটি শব্দগত অস্পষ্টতার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বিলের একটি উপধারায় ব্যবহৃত ‘সিট’ নাকি ‘কনস্টিটিউেন্সি’—কোন শব্দটি সঠিক হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং আইনমন্ত্রী পর্যালোচনার আশ্বাস দেন।

পরবর্তীতে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে আইনমন্ত্রী বিল তিনটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। স্পিকার ঘোষণা করেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটই জয়ী হয়েছে।

এই বিলগুলো আইনে পরিণত হওয়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও সুশৃঙ্খল ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *