শুভেচ্ছা সফরের অংশ হিসেবে আজ (মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল) ভারত সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সফরটিকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে, কারণ এতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এই সফরের মূল আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে তার বৈঠককে। এস. জয়শঙ্কর (S. Jaishankar)-এর সঙ্গে আলোচনায় দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়ে বিস্তৃত মতবিনিময় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সফরটি শুধুমাত্র একটি বৈঠকে সীমাবদ্ধ থাকছে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, খলিলুর রহমান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল (Ajit Doval), বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল (Piyush Goyal) এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি (Hardeep Singh Puri)-এর সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন খাত নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করা, বিদ্যমান বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিথিল বা প্রত্যাহার। পাশাপাশি নদীর পানি বণ্টন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো সংবেদনশীল ও দীর্ঘদিনের ইস্যুগুলোও আলোচনায় উঠে আসতে পারে।
এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম দিল্লি সফর। ফলে এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিকনির্দেশনা নির্ধারণ হতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir), যা সফরটির কূটনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।


