দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কেবল আগের সরকারের নয়, বর্তমান সরকারের ভেতরেও কোনো অনিয়ম বা দু’র্নী’তি আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান (Dr. Zahed Ur Rahman)।
সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তর (Department of Information) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বক্তব্য দেন। এসময় তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করেন, দুদক এখনও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটি সম্পন্ন হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ওঠা দু’র্নী’তির অভিযোগগুলোর তদন্ত শুরু হবে। তিনি বলেন, সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—কেবল অতীতের দায় খোঁজা নয়, বর্তমানেও কোনো অনিয়ম থাকলে সেটিও সমান গুরুত্বে বিবেচনায় আনা হবে।
তিনি আরও জানান, দু’র্নী’তির পথ রোধ করতেই সরকার এই উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একটি কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক এক ঘটনায় সরকারের সমালোচনার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গও ওঠে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, তবে শুধুমাত্র মতপ্রকাশের কারণে কাউকে হয়রানি করা উচিত নয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাচ্ছে না—এমন অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেননি। বরং নিয়মিত ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান।
এদিকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দোকান বন্ধের সময় পরিবর্তন বা অফিস সময় কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে।


