শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, মতামতের ভিত্তিতে আসছে সিদ্ধান্ত

জ্বালানি সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তীব্র যানজট—এই তিনমুখী চাপের বাস্তবতায় দেশের শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন রাখা যায়, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক আলোচনার দ্বার খুলছে সরকার। এ প্রেক্ষাপটে বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মধ্যেও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালু রাখার কৌশল নিয়ে বিস্তৃত মতামত নেওয়া হবে।

জানা গেছে, এই বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় (Ministry of Education)-এর অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় (Ministry of Primary and Mass Education) যৌথভাবে অংশ নেবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন (Dr. A N M Ehsanul Haque Milon)। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ (Bobi Hajjaj)।

এছাড়াও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা এই আলোচনায় যুক্ত থাকবেন। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে কীভাবে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো সম্ভব, সে বিষয়ে নানা প্রস্তাব ও মতামত উপস্থাপন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সচল রাখার একটি কার্যকর পথ নির্ধারণে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এই সভাতেই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসছে না। বরং এখানে উঠে আসা মতামতগুলো পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে এবং সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আলোচনায় অনলাইন ও অফলাইনের সমন্বয়ে ব্লেন্ডেড ক্লাস পদ্ধতির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং যানজটের প্রভাব কমাতে বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা হিসেবে এই পদ্ধতি সামনে আসছে।

এর আগে, গত ৩১ মার্চ সচিবালয়ে এক বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত নির্দেশনার আলোকে নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে অনলাইনভিত্তিক ক্লাস চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, শিক্ষার্থীদের শিখন কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস চালুর একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন অফলাইনে ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বর্তমান সংকট মোকাবিলায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *