দেশের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক রূপ দিতে পদ্মা সেতু (Padma Bridge)-তে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে সেতুর উভয় প্রান্তের জেলাগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (Bangladesh Bridge Authority)-এর আওতায় বাস্তবায়িত এই উদ্যোগ সরকারের স্মার্ট ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, টোল আদায়ের প্রচলিত ধীরগতির প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয় করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ (Mohammad Abdur Rouf)-এর নির্দেশনা ও তদারকিতে পুরো কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে যানবাহন মালিক ও চালকদের মধ্যে নিয়মিত লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে তারা এই নতুন ব্যবস্থার সুবিধা সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।
গত ৩ এপ্রিল ফরিদপুর (Faridpur)-এ গোল্ডেনলাইন পরিবহনের বাস ডিপোতে পোর্টেবল আরএফআইডি স্ক্যানারের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ইটিসি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়। একই সঙ্গে মাওয়া প্রান্তে স্থাপিত নির্ধারিত বুথে সপ্তাহের যেকোনো দিন রেজিস্ট্রেশন করা যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে মাদারীপুর বাস টার্মিনাল, ঢাকার রাজারবাগ, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ীতেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ পর্যন্ত মোট ৫৪৬টি যানবাহন ইতোমধ্যে ইটিসি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে ট্যাপ, বিকাশ (bKash), নগদ ও উপায়সহ বিভিন্ন ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে টোল পরিশোধের সুবিধা চালু রয়েছে। ইটিসি ব্যবহারের ফলে যানবাহনগুলো টোল প্লাজায় থামার প্রয়োজন ছাড়াই নির্ধারিত গতিসীমার মধ্যে থেকে নির্বিঘ্নে পারাপার করতে পারছে।
এই নতুন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন। নন-স্টপ যাতায়াতের ফলে টোল প্লাজায় থামতে হচ্ছে না, যার ফলে দীর্ঘ যানজট এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত হচ্ছে, কারণ স্বয়ংক্রিয় টোল ব্যবস্থায় দ্রুত পারাপার সম্ভব হচ্ছে। ক্যাশলেস লেনদেনের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট সহজ হয়েছে এবং প্রতিটি লেনদেনের পর এসএমএসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক টোল তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে।
মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জনসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ইটিসি চালুর ফলে পদ্মা সেতুতে যানবাহন দ্রুততম সময়ে পারাপার হতে পারবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেতুর উভয় প্রান্তের জেলাগুলোতে নির্ধারিত বুথে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যানবাহন মালিক ও চালকদের দ্রুত ইটিসি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে আধুনিক এই সেবা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনকারী পদ্মা সেতু ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইটিসি চালুর মাধ্যমে এই সেতুর কার্যক্ষমতা আরও বাড়বে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


