জ্বালানি গায়েবের অভিযোগে গৌরীপুরে বিএনপি নেতার বহিষ্কার, রাজনৈতিক চক্রান্তের দাবি

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে একটি ফিলিং স্টেশন থেকে বিপুল পরিমাণ তেল গায়েব হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উধাও হওয়ার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী (Ruhul Kabir Rizvi) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাফেজ আজিজুল হককে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ (Mymensingh) উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার গণমাধ্যমকে জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তদারকির অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম গৌরীপুর (Gouripur) উপজেলার কলতাপাড়া বাজারে অবস্থিত হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে সরবরাহ করা চালান ও নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু মজুত ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট হিসাব চাইলে স্টেশন ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

তিনি দাবি করেন, গত ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়েছে এবং বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই। তার এই বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের অভিযোগ এবং প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি অবৈধভাবে মজুত ও কালোবাজারিতে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫০ থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেলের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি, যা ঘটনাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।

এ ঘটনায় মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ ওই মামলায় স্টেশন ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাতকে গ্রেফতার করেছে।

তবে সদ্য বহিষ্কৃত হাফেজ আজিজুল হক এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, তেল মজুত বা কালোবাজারির অভিযোগ সত্য নয়। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এ ঘটনা সাজিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *