শিক্ষকদের অবসরভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে সরকারের প্রতি তিন দফা আহ্বান জানিয়ে স্পষ্ট আল্টিমেটাম দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party – NCP)। বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলটি তাদের এই অবস্থান তুলে ধরে।
বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি গভীর হতাশা প্রকাশ করে জানায়, বাংলাদেশের পেশাজীবীদের মধ্যে শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার। চাকরিজীবনে কম মজুরি ও সামাজিক অবমূল্যায়নের পাশাপাশি অবসরে গিয়েও তাদের দুর্ভোগ যেন শেষ হয় না। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার জন্য শিক্ষকদের যে সংগ্রাম করতে হয়, তা একটি রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক বাস্তবতা বলে উল্লেখ করা হয়।
গণমাধ্যমের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, প্রায় ১৫ শতাংশেরও বেশি শিক্ষক অবসরের প্রাপ্য অর্থ না পেয়েই মৃত্যুবরণ করেন। অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অর্থসংকটের কারণে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন—যা একটি গভীর মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়।
এনসিপি মনে করে, জাতি গঠনের কারিগর হিসেবে শিক্ষকদের এমন করুণ পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দলটি অভিযোগ করে, শিক্ষকদের নিজেদের কষ্টার্জিত অবসর ও কল্যাণ ফান্ডের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। অথচ এই লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। বরং শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকারের প্রশ্নে রাষ্ট্রের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও হতাশাজনক করে তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভোগান্তি লাঘবে এনসিপি সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় (Ministry of Education)-এর কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছে। প্রথমত, অবসর গ্রহণের ১৮০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ছয় মাসের মধ্যে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পূর্ণ পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের বেতন থেকে কর্তনকৃত অর্থের স্বচ্ছ হিসাব জানার সুযোগ দিতে হবে এবং সেই ফান্ড থেকে ঋণ গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করতে হবে। তৃতীয়ত, অতীতে এই ফান্ড থেকে লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় এনে সেই অর্থ পুনরুদ্ধার করে শিক্ষকদের ফান্ডে ফেরত দিতে হবে।
দলটি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছে, সরকার দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায়, সারা দেশের শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের পথে হাঁটারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে এনসিপি।


