গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (Dr. Zafrullah Chowdhury)-র মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Dr. Muhammad Yunus)।
১১ এপ্রিল রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ড. ইউনূস লেখেন, ‘জাফরুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে স্মরণ করছি। বিশ্বাস করা কঠিন—ইতোমধ্যেই তিন বছর কেটে গেছে।’
মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের নানা গণতান্ত্রিক ও সামাজিক আন্দোলনে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অবদান তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, তিনি শুধু একজন দৃঢ়চেতা মানুষ ছিলেন না—তিনি নিজেই ছিলেন একটি আন্দোলন। তার ভাষায়, দেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিটি সংগ্রামে জাফরুল্লাহ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন অন্যের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।
বিশেষ করে দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে জাফরুল্লাহর নিরলস ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হলেই প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠা সম্ভব—এই বিশ্বাস থেকেই জাফরুল্লাহ সারাজীবন কাজ করেছেন।
ড. ইউনূস আরও লেখেন, সংকটের সময় গ্রামীণ ব্যাংক (Grameen Bank) ও এর নারী সদস্যদের পাশে জাফরুল্লাহ দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং আত্মনির্ভরতার সংগ্রামে তার সমর্থন ছিল সাহসী, কার্যকর ও অটুট।
বঞ্চিত মানুষের অধিকারের প্রশ্নে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জাফরুল্লাহ আপসহীন ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, নিজের শারীরিক কষ্ট সত্ত্বেও তিনি কখনো পিছু হটেননি। শেষ দিন পর্যন্ত তার লড়াই ছিল মানুষের অধিকারের পক্ষে।
ড. ইউনূসের ভাষায়, আজ জাফরুল্লাহ বেঁচে থাকলে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে তরুণদের সাহস ও ত্যাগ দেখে অনুপ্রাণিত হতেন। তিনি তাদের পাশে দাঁড়াতেন, যেমনটি সারাজীবন করেছেন—একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে।
পোস্টের শেষাংশে ড. ইউনূস লেখেন, ‘তার জীবন আমাদের পথ দেখাক। তিনি চিরশান্তিতে থাকুন।’
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান জাফরুল্লাহ চৌধুরী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনে তার অবদান আজও গভীরভাবে স্মরণীয়।


