বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ এবং নাহিদ ইসলাম (Nahid Islam) জানিয়েছেন, দেশকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতিতে তারা আবারও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো দল বা জোটের একক বিষয় নয়—বরং বাংলাদেশকে রক্ষা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে অক্ষুণ্ণ রাখার লড়াই।
রবিবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (Institution of Diploma Engineers, Bangladesh) এর মুক্তিযোদ্ধা হলরুমে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়’ তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman), যিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আছি। এটি কোনো দলের বিষয় নয়, কোনো জোটের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের প্রশ্ন।” তিনি আরও যোগ করেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্বীকার করেন, সে সময় হয়তো তারা সবার পাশে পুরোপুরি দাঁড়াতে পারেননি, তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষায়, “সরকার জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে বড় বড় কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবে তারা কী করছে—সেটি আমরা দেখতে চাই।”
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই অধিদপ্তর ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত হয়েছিল এবং সেগুলোর কিছু কার্যক্রম এখনো চলমান। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের অনীহা চোখে পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাজনৈতিক সমালোচনার অংশে বিএনপি (BNP)-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের পর ক্ষমতায় এসে বিএনপি তিন দলের জোটের রূপরেখা অস্বীকার করেছিল। বর্তমানে জুলাই সনদের কথা বললেও বাস্তবে সেটিকে দলীয় ইশতেহারে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা তিনি ‘কলুষিত’ বলে উল্লেখ করেন।
পুলিশ ও বিচার বিভাগের প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) সরকারের আমলে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছিল, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর ছিল।” বর্তমান সময়েও বিচারপতি নিয়োগ ও পুলিশ সংস্কারে ধীরগতির অভিযোগ তুলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আবারও ‘জাতীয়তাবাদী পুলিশ বাহিনী’ গঠনের চেষ্টা চলছে।
অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে শহীদদের পরিবার এবং আহত ছাত্র-জনতাও উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল আবেগ, ক্ষোভ এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচির ইঙ্গিত।


