ইরানের বন্দরগামী সব সামুদ্রিক চলাচল বন্ধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে উত্তেজনা

মার্কিন সেনাবাহিনী (US Military) ঘোষণা দিয়েছে, আজ সকাল ১০টা (ইটি) বা ১৪:০০ জিএমটি থেকে তারা ইরান (Iran)-এর বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও সেখান থেকে প্রস্থানকারী সব ধরনের সামুদ্রিক চলাচল বন্ধ করে দেবে। এই ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি আসা যেকোনো সামরিক জাহাজকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করা হবে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন ও যুদ্ধবিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয় (UNSW)-এর সামুদ্রিক আইন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেনিফার পার্কার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নৌ-অবরোধ যুদ্ধের বৈধ কৌশল হতে পারে—তবে তার জন্য কঠোর কিছু শর্ত মানতে হবে।

তার মতে, প্রথম শর্ত হলো—অবরোধ এমনভাবে আরোপ করা যাবে না, যাতে কোনো নিরপেক্ষ রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালীতে সরাসরি অবরোধ দিলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বহু দেশ ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনগত প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, খাদ্য ও জরুরি মানবিক সহায়তা বহনকারী জাহাজ চলাচলের সুযোগ রাখতে হবে। বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে অনাহারে রাখা বা মানবিক সংকট তৈরি করা আন্তর্জাতিক আইনে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তৃতীয় শর্ত হিসেবে জেনিফার পার্কার বলেন, যেকোনো নৌ-অবরোধ অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে। তার ভাষায়, অবরোধ যদি কেবল নির্দিষ্ট দেশের জাহাজকে লক্ষ্য করে করা হয়, তবে সেটি আন্তর্জাতিকভাবে বৈধতা হারাতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, সেন্টকম (CENTCOM) যে ভাষায় ঘোষণা দিয়েছে, তাতে ইরানের বন্দরে যাতায়াতকারী সব দেশের পতাকাবাহী জাহাজের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে—এটিই আইনি দৃষ্টিতে তাৎপর্যপূর্ণ।

সাবেক নৌ-কর্মকর্তা পার্কার মনে করেন, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো। বিশেষ করে তেল রপ্তানি ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করাই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে চীনের মাধ্যমে ইরানকে নতুন করে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধমূলক অবস্থান মূলত সেই সরবরাহ পথও ঠেকাতে চায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *