দেশের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করতে কিউআর কোডভিত্তিক নতুন একটি ডিজিটাল সেবা চালু করেছে সরকার। ‘ফুয়েল পাস’ (Fuel Pass) নামে এই উদ্যোগটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যা জ্বালানি গ্রহণ প্রক্রিয়াকে সহজ ও নিয়ন্ত্রিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সিস্টেমটি চালু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (Bangladesh Petroleum Corporation) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (Bangladesh Road Transport Authority)-এর যৌথ উদ্যোগে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি অনিয়ম কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি রাখা হয়েছে অত্যন্ত সহজ। একজন ব্যবহারকারী তার স্মার্টফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করে ঘরে বসেই সম্পূর্ণ নিবন্ধন শেষ করতে পারবেন। নিবন্ধনের সময় প্রয়োজন হবে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য ও কাগজপত্র—জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর, গাড়ির ব্লু-বুক বা স্মার্ট কার্ড, চ্যাসিস ও ইঞ্জিন নম্বর, বিআরটিএ-নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর এবং একটি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
নিবন্ধন শুরু করতে প্রথমে ব্রাউজার থেকে fuelpass.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে অথবা গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। এরপর ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘New Registration’ অপশনে ক্লিক করে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চ্যাসিস নম্বর এবং ইঞ্জিন নম্বর সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে।
পরবর্তী ধাপে ব্যবহারকারীকে নিজের এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিতে হবে। তখন সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিআরটিএ-এর ডেটাবেজ থেকে তথ্য যাচাই করবে। যাচাই শেষে মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) কোড পাঠানো হবে, যা প্রদান করে নম্বরটি নিশ্চিত করতে হবে।
সবশেষে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড সেট করার মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন হবে এবং ব্যবহারকারীর জন্য একটি ইউনিক কিউআর কোড জেনারেট হবে। এই কোডটি ভবিষ্যতে জ্বালানি নেওয়ার সময় ব্যবহার করতে হবে।
যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা চাইলে কম্পিউটার দোকান বা যেকোনো পিসি ব্যবহার করেও নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন। নিবন্ধন শেষে কিউআর কোডটি প্রিন্ট করে লেমিনেট করে সঙ্গে রাখলে ফিলিং স্টেশনে স্ক্যানের মাধ্যমে সহজেই জ্বালানি নেওয়া যাবে।
প্রাথমিকভাবে রাজধানী ঢাকা (Dhaka)-এর দুটি ফুয়েল স্টেশনে মোটরসাইকেল গ্রাহকদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা চালু করা হয়েছে। স্টেশন দুটি হলো—তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ (Energy and Mineral Resources Division) জানিয়েছে, ধাপে ধাপে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহনের জন্য এই সেবা চালু করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, কিউআর কোডভিত্তিক এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, অনিয়ম কমবে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে আরও বেশি শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


