বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান সুসম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সংসদীয় কূটনীতির ভূমিকা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed), বীর বিক্রম এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা (Pranay Verma)-এর মধ্যকার সৌজন্য সাক্ষাতে এই বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ (Bangladesh) ও ভারত (India)-এর ঐতিহাসিক সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের নানা দিক নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা সময়ের সঙ্গে আরও সুসংহত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত সরকার সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল, যা দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তিকে আরও মজবুত করেছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সভাপতি পদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে ভারত সরকারের সমর্থন প্রতিবেশীসুলভ সহযোগিতা ও উদার মানসিকতার প্রতিফলন।
সংসদের কার্যক্রম প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, বর্তমান সংসদ অত্যন্ত প্রাণবন্ত এবং এখানে বিরোধী দলও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে বিদ্যমান সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের সেতুবন্ধন দৃঢ় করতে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়।
এসময় প্রণয় ভার্মা স্পিকার পদে নির্বাচিত হওয়ায় হাফিজ উদ্দিন আহমদকে অভিনন্দন জানান এবং ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান ও শুভেচ্ছা স্মারক উপহার প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


