জেব্রা ক্রসিং না মানলেই জেল-জরিমানা, রাজধানীতে কঠোর বার্তা ডিএমপির

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার দৃশ্যত কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (Dhaka Metropolitan Police)। রাস্তা পারাপারে নির্ধারিত নিয়ম না মানলে পথচারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সংস্থাটি।

গতকাল রবিবার (১২ এপ্রিল) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারের স্বাক্ষরে জারি হওয়া এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—রাজধানীতে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যাতায়াত নিশ্চিত করতে এখন থেকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কোনো সুযোগ থাকবে না। বিশেষ করে জেব্রা ক্রসিং, ফুট ওভারব্রিজ কিংবা আন্ডারপাস ব্যবহার না করে রাস্তা পার হলে পথচারীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ (Road Transport Act 2018) অনুযায়ী কোনো পথচারী বা সড়ক ব্যবহারকারী ট্রাফিক সংকেত অমান্য করলে, অথবা নির্ধারিত স্থান এড়িয়ে রাস্তা পারাপার করলে অনধিক এক মাসের কারাদণ্ড কিংবা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

শুধু পথচারীই নয়, যানবাহন চালকদের জন্যও রয়েছে কঠোর নির্দেশনা। নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী বা পণ্য ওঠানামা করালে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং চালকের লাইসেন্সে এক পয়েন্ট কাটা হবে। একইসঙ্গে উল্টো পথে গাড়ি চালানো বা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে অনধিক তিন মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে।

ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করে যানচলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (Dhaka North City Corporation) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (Dhaka South City Corporation)-এর সমন্বয়ে ইতোমধ্যে রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর, সোনারগাঁও, ফার্মগেট পুলিশ বক্স, বিজয় সরণি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাহাঙ্গীর গেট, গুলশান-১ ও গুলশান-২ ক্রসিং। পাশাপাশি ডিএমপির নিজস্ব উদ্যোগে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত, খেজুর বাগান, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর, মাজার রোড, আবুল হোটেল, মৌচাক, রায়সাহেব বাজার মোড় এবং লাভরোড ক্রসিংয়ে অস্থায়ীভাবে (বিশেষত রাতের জন্য) সিগন্যাল লাইট বসানো হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং—হাইকোর্ট, কদম ফোয়ারা, মৎস্য ভবন, কাকরাইল মসজিদ, পুলিশ ভবন ও শাহবাগে—সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে, যা শিগগিরই চালু হবে বলে জানানো হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে পথচারীদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ফুট ওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করেই রাস্তা পার হতে হবে। অন্যথায় ঘটনাস্থলেই বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হবে। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালিয়ে পরবর্তীতে ভিডিও প্রসিকিউশনের মাধ্যমেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *