প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir) জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ভারত সফরটি ছিল ‘ফলপ্রসূ’, এবং এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, পারস্পরিক মনোভাব যদি ইতিবাচক থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও দৃশ্যমান অগ্রগতি সম্ভব।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সফরকালে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল (Ajit Doval) এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar)-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে, যা উভয় পক্ষের জন্য ইতিবাচক ছিল।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, আগামী সপ্তাহেই এসব আলোচনার কিছু ইতিবাচক ফল দৃশ্যমান হবে। বিশেষ করে মেডিকেল ভিসা দ্রুত চালুর বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি, এবং ভারতও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছে।”
এর আগে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান (Dr. Khalilur Rahman) ও হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভারত সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন। গত ৭ এপ্রিল এস জয়শঙ্করের আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-কে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই বিষয়টি সবসময় আলোচনায় থাকবে, কারণ এটি জনগণের আগ্রহের একটি বড় জায়গা।”
তিনি আরও বলেন, “একজন স্বৈরাচার ও সন্ত্রা’\সী ভারতের মাটিতে অবস্থান করছে, যিনি আন্তর্জাতিকভাবে অভিযুক্ত। এই সন্ত্রা’\সী বাংলাদেশের দেড় হাজার মানুষকে হ’\ত্যা করে সেখানে আশ্রয় নিয়েছে—এ বিষয়টি আমরা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি।”
তার ভাষায়, শেখ হাসিনা যাতে ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে তিনি বলেন, এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের একটি রূপরেখা তৈরির চিন্তা রয়েছে, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও মজবুত করা সম্ভব।
জুলাই যোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদি হ’\ত্যা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কিলারদের ধরা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সম্পর্ক উন্নয়নে দুই পক্ষকেই সমানভাবে এগোতে হবে। একদিনে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তবে মানসিকতা ঠিক থাকলে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।”
তিনি স্বীকার করেন, কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। বিশেষ করে পলাতক সন্ত্রা’\সী শেখ হাসিনার উপস্থিতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং অন্যান্য সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ভারত ইতোমধ্যে কিছু সহায়তা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।
সবশেষে তিনি বলেন, “অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি জনগণের ম্যান্ডেট ছিল না। এখন দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই বৈধতা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং বড় পরিসরে কথা বলার সুযোগ দিয়েছে।”


