রমনা বটমূলে নববর্ষ ১৪৩৩-এর বর্ণিল সূচনা, ভোর থেকেই উৎসবের জোয়ার

শুরু হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। রাজধানীর রমনা বটমূল ঘিরে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে বর্ণিল আয়োজন, যেখানে সংগীত, আবৃত্তি ও নানামাত্রিক পরিবেশনার মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানাচ্ছেন হাজারো মানুষ। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হয় এ বছরের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের।

নববর্ষকে ঘিরে এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। এই প্রতিপাদ্যের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন সাহস, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের আহ্বান জানানো হচ্ছে, তেমনি বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ও নতুন করে তুলে ধরা হচ্ছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী, সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়—এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার এক অনন্য প্রতীক।

এই আয়োজনের পেছনে রয়েছে দেশের প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট (Chhayanaut), যারা ১৯৬৭ সাল থেকে নিয়মিতভাবে রমনার বটমূলে পয়লা বৈশাখ উদযাপন করে আসছে। সময়ের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়েও তাদের এই উদ্যোগ আজ জাতীয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka)-এর চারুকলা অনুষদ থেকেও বের হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা বহন করছেন, আর ৩৫ জন যন্ত্রশিল্পীর বাঁশি ও দোতারার সুরে ধ্বনিত হচ্ছে চিরচেনা গান ‘এসো হে বৈশাখ’, যা পুরো পরিবেশকে আরও উৎসবমুখর করে তুলছে।

নতুন বছরের প্রথম প্রহরেই এভাবেই প্রাণের উচ্ছ্বাস, সংস্কৃতির রঙ এবং ঐতিহ্যের সুরে মুখর হয়ে উঠেছে রাজধানী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *