কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দলীয় প্রভাব নয়, যোগ্যতাই হবে মাপকাঠি: পঞ্চগড়ে প্রতিমন্ত্রী

পঞ্চগড়ে এক অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ (Farhad Hossain Azad) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কৃষি কার্ড কিংবা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দলীয় বিবেচনা করা হবে না। দেশের অন্যান্য এলাকার মতো পাইলট প্রকল্প হিসেবে পঞ্চগড় (Panchagarh)-এর পাঁচপীর এলাকায় দুই হাজার কৃষকের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কমলাপুর ব্লকে আরও দেড় হাজার কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এই কার্যক্রমের উদ্বোধন ভার্চুয়ালি করেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)। তবে কারা এই কার্ড পেয়েছেন, সে বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে তিনি অবগত নন বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষায়, কৃষি মন্ত্রণালয়, ইউএনও এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তিন স্তরে যাচাই-বাছাই করে নির্ধারণ করেছেন কারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

মঙ্গলবার দুপুরে পাঁচপীর ইউনিয়নের বৈরাতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “কৃষি কার্ড বিতরণে কোনো দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি বা ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে বিভাজন করা হবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতেই কার্ড দেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যে এই কর্মসূচির উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের লক্ষ্য রয়েছে।

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা ছাড়া এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। “দল, মত, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যদি সরকারের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে দেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে,”—যোগ করেন তিনি।

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, কোনো ধরনের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কাউকে বিচার করা হবে না। বরং যারা প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত, তাদেরই অগ্রাধিকার দিয়ে সহায়তা প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন। পরে প্রতিমন্ত্রী ১৫ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড এবং দুটি করে ফলজ গাছের চারা তুলে দেন। কার্ড পেয়ে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। তারা জানান, পূর্ববর্তী সরকার এ ধরনের উদ্যোগ নেয়নি।

অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষক, কৃষাণী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP)-এর নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, সদর উপজেলার ব্যারিস্টার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট মাঠে ধাক্কামারা ইউনিয়নের কমলাপুর ব্লকের ১ হাজার ৫৯২ জন কৃষকের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির (Barrister Naushad Zameer)। সেখানেও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কৃষক এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *