যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ জারির পরও হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) অতিক্রম করেছে ইরানের বন্দর ব্যবহার করা অন্তত দুটি জাহাজ। জাহাজ চলাচল ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলার (Kpler) মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। একই সময়ে আরও তিনটি ট্যাঙ্কারও এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পাড়ি দিয়েছে, যদিও সেগুলো সরাসরি ইরানের কোনো বন্দর ব্যবহার করেনি।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘ক্রিশ্চিয়ানা’ ভুট্টার চালান নিয়ে ইমাম খোমেনি বন্দর (Imam Khomeini Port) গিয়েছিল। পণ্য খালাসের পর জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর, সোমবার এটি লারাক দ্বীপ (Larak Island) অতিক্রম করতে দেখা যায়।
দ্বিতীয় জাহাজ ‘এলপিস’, যা পূর্ব আফ্রিকার দেশ কোমোরোসের পতাকাবাহী, অবরোধ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই লারাক দ্বীপের আশপাশে অবস্থান করছিল। পরবর্তীতে সেটিও সফলভাবে প্রণালি অতিক্রম করে।
অন্যদিকে, বাজার তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এলএসইজি (LSEG)-র তথ্যের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা আরও তিনটি ট্যাঙ্কারও হরমুজ পাড়ি দিয়েছে। এর মধ্যে সবশেষ পানামার পতাকাবাহী ‘পিস গালফ’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এর আগেও নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত আরও দুটি ট্যাঙ্কার এই সংকীর্ণ জলপথ অতিক্রম করে। যেহেতু সেগুলো সরাসরি ইরানের বন্দরে যাচ্ছিল না, তাই মার্কিন নৌ-অবরোধের আওতায় পড়েনি। যুক্তরাষ্ট্র আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, ইরানের বন্দর ব্যবহার করা যেকোনো দেশের জাহাজকে অবরোধের মুখে পড়তে হবে।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ‘মুরলিকিষাণ’ নামের একটি ট্যাঙ্কার বর্তমানে জ্বালানি তেল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ইরাকের দিকে যাচ্ছে। ‘এমকেএ’ নামেও পরিচিত এই জাহাজ অতীতে রাশিয়া ও ইরানের তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হয়েছে। এর আগে মার্কিন নৌ-অবরোধ শুরুর পর ‘রিচ স্টারি’—চীনা মালিকানাধীন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত একটি ট্যাঙ্কার—প্রথম জাহাজ হিসেবে সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছিল।


