পার্বত্য জেলা রাঙামাটি (Rangamati)-র কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া বাজার এলাকায় সিএনজি ভাড়া নিয়ে সৃষ্ট একটি বিরোধ মুহূর্তেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে রূপ নেয়। দু’পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও সময়মতো সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ এপ্রিল বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে। ঘাগড়া বাজার সিএনজি স্টেশনে ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে সিএনজি চালক মো. আবুল হোসেন (৩২) এবং একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রবেশ চাকমা (৩২)-র মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে উভয়ের সঙ্গীরা যুক্ত হলে তর্কের তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শুরুতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে চাকমা সম্প্রদায়ের কিছু লোকজন একত্রিত হয়ে স্টেশনে অবস্থানরত সিএনজি চালকদের ওপর হামলা চালায়। এতে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষ নতুন করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ঠিক সেই সময় মেজর মো. মিনহাজুল আবেদীন (৬০ ইবি)-এর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটিগামী একটি সেনা মুভ ঘাগড়া বাজার অতিক্রম করছিল। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি থামিয়ে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেন এবং দ্রুত হস্তক্ষেপের উদ্যোগ নেন। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টাকালে তিনি নিজেও হাতের আঙুলে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
পরে খবর পেয়ে লে. কর্নেল একরামুল রাহাত, পিএসসি, অধিনায়ক, ৬০ ইবি এবং মেজর খোরশেদ হাসান, এসইউপি, পিএসসি, ব্রিগেড মেজর, ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেড ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পরবর্তীতে আগামী ১৬ এপ্রিল উভয় পক্ষকে নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জোন কমান্ডার, ৬০ ইবি এ বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে সংশ্লিষ্টদের ঘাগড়া জোন ক্যাম্পে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ (UPDF)-পন্থি কিছু গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সেনাবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই বিজু উৎসবকে সামনে রেখে সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বড় আকার ধারণ করতে পারেনি।
ঘটনার সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য বর্না চাকমার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পরিস্থিতি শান্ত না করে বরং উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে পাহাড়ি গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং জানান, মদ্যপানের কারণে প্রবেশ চাকমাসহ কয়েকজনের আচরণ উগ্র হয়ে ওঠে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার আশ্বাসও দেন তিনি।
উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলের মতো সংবেদনশীল এলাকায় ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত বড় আকার ধারণ করতে পারে। তাই গুজব এড়িয়ে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


