দেশে পেপালের কার্যক্রম শুরুতে উদ্যোগ—কমিটি গঠনের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশের হাই-টেক পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলোর কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে পেপালের কার্যক্রম চালু করতে ইতোমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে তিনি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, বাংলাদেশে পেপাল কার্যক্রম চালু করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এ লক্ষ্যে বিভিন্ন স্তরে সমন্বয় চলছে।

বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে পেপাল এর আগেও একাধিকবার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। সর্বশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আন্তর্জাতিক এই প্রতিষ্ঠানটি আবারও এ বিষয়ে আগ্রহ দেখায়, যা নতুন করে আলোচনার পথ তৈরি করে।

গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছিলেন, পেপাল বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের ফ্রিল্যান্সার, ই-কমার্স উদ্যোক্তা এবং আইটি খাতে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেনকে সহজ ও নিরাপদ করা।

ওই সময় পেপালের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের (সিঙ্গাপুরভিত্তিক) একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি ও আইসিটি বিভাগের সঙ্গে বৈঠকও করে। এই বৈঠকগুলোতে সম্ভাব্য কার্যক্রম, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা যায়।

পেপাল বর্তমানে বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই অনলাইনে অর্থ পাঠানো ও গ্রহণ, বিল পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক কেনাকাটা করতে পারেন। ফলে, বাংলাদেশে এর কার্যক্রম চালু হলে দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *