জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার জাপানের উদ্যোগে আয়োজিত এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি প্লাস (AZEC Plus) অনলাইন সম্মেলনে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)।
বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে নিজ কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি সম্মেলনে যুক্ত হয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন। বিষয়টি পরে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সম্মেলন-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ তার জ্বালানি নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ চাহিদা এবং সংকট মোকাবিলার বাস্তব প্রয়োজনের বিষয়টি অংশীদার দেশগুলোর সামনে তুলে ধরেছে। তার ভাষায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় এশীয় দেশগুলোর সমন্বিত কাঠামো জরুরি।
তিনি বলেন, জাপান মনে করছে—জ্বালানি সংকটের মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এশিয়াভিত্তিক একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। বাংলাদেশও সেই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ছিল ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, তিমুর-লেস্তে, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র, অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনেই, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (IEA) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
২০০ কোটি ডলার সহায়তা কীভাবে চাওয়া হয়েছে—ঋণ নাকি অনুদান—এমন প্রশ্নে হুমায়ুন কবির সরাসরি কোনো ধরন উল্লেখ না করে বলেন, “এই যে খোঁচাখুঁচির চেষ্টা, এখানে খোঁচাখুঁচির কিছু নাই। বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখেন।”
আর কেউ অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “খালি টাকার কথা শুনলেই মাথা নষ্ট হয়ে যায়। এরকম বিষয়গুলো থেকে বের হতে হবে। বাংলাদেশ আর ভিক্ষুক দেশ নয়।”
তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, বাংলাদেশ এই সহায়তাকে কেবল আর্থিক অনুদান বা ঋণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ না রেখে, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হিসেবেই দেখতে চাইছে।


