জামায়াতের কোটায় নারী আসনে এমপি হচ্ছেন ডা. মিতু, তাসমিয়া প্রধান ও জুলাই শহীদের মা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জামায়াতের প্রাপ্য দলীয় কোটায় এবার সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন একজন জুলাই শহীদের মা। একই সঙ্গে আলোচনায় থাকা এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু এবং রাশেদ প্রধানের বোন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধানও রয়েছেন সম্ভাব্য তালিকায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর একটি বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে, যা প্রক্রিয়াটিকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নিজেদের অর্জিত আসনের ভিত্তিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেতে যাচ্ছে মোট ১৩টি আসন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৬টি সাধারণ (পুরুষ) আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন বরাদ্দ হয়। সেই হিসাবে, জোটের এই ১৩টি আসনের মধ্যে ১২টিই জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)-এর এবং বাকি ১টি আসন পাওয়ার কথা জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party – NCP)-এর।

তবে জোটের ভেতরের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, পর্যাপ্ত সাধারণ আসনে জয়ী হতে না পারায় অন্য শরিক ৯টি দলের কারোই সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে জোটের ভারসাম্য রক্ষায় নিজেদের প্রাপ্ত আসন থেকে কিছুটা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত।

দলীয় সূত্র জানায়, জোটের শরিক এবং জুলাই শহীদ পরিবারের জন্য ৩টি আসন ছেড়ে দিয়ে নিজেদের জন্য ৯টি আসন রাখছে জামায়াত। এই ৯টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে মহিলা জামায়াতের নেতৃত্ব দেওয়া নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, দলের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আখন্দের স্ত্রী এবং আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নি। এছাড়া আলোচিত টকশো ব্যক্তিত্ব মারদিয়া মমতাজের নামও রয়েছে আলোচনায়।

কেন্দ্রীয় তালিকার বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বগুড়া অঞ্চল থেকেও একজন করে নারী নেত্রীর নাম মনোনীতদের প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যা দলীয় ভারসাম্য ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ইঙ্গিত দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বাংলাভিশন (BanglaVision)-কে বলেন, এই মুহূর্তে কারো নাম প্রকাশের সুযোগ নেই। মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে আমীরে জামায়াতের কাছে একটি তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারিত হলে দল আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করবে।

তিনি আরও জানান, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কেবল সাংগঠনিক দক্ষতা নয়, বক্তব্যে পারদর্শিতা এবং জনসম্পৃক্ততাও গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে এমন নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যারা রাজনৈতিক ও সামাজিক দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয় ও প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *